মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রাকৃতিক সম্পদ

মৌলভীবাজার। চা সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ঐতিহাসিক জেলা। সিলেট বিভাগের আওতাধীন মৌলভীবাজার জেলার উত্তরে সিলেট, দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা এবং পশ্চিমে হবিগঞ্জ জেলা অবস্থিত।
মৌলভীবাজার জেলার আয়তন ২ হাজার ৭শ ৯৯ দশমিক তিন নয় বর্গকিলোমিটার। উপজেলা রয়েছে ৭টি। মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর, কুলাউড়া, বড়লেখা, জুরি, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল। বাংলাদেশের মোট ১৬১টি চা বাগানের মধ্যে ৯৮টিই মৌলভীবাজারে অবস্থিত। চা শিল্প ছাড়া এ জেলায় তেমন কোনো বড় কারখানা না থাকলেও পাহাড়, বন, পশু-পাখি, লেক, জলপ্রপাত, হাওর, চা, কমলালেবু, প্রাকৃতিক সম্পদ, আদিবাসী জনপদ এ সবকিছুই মৌলভীবাজারকে অন্য সকল জেলা থেকে স্বতন্ত্র করে রেখেছে।
অতীতে মৌলভীবাজার ত্রিপুরা ও কামরূপ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৮৭৪ সালে সিলেট ও কাছার মিলে আসাম প্রদেশ গঠিত হয়। ১৮৭৭ সালে সিলেট অঞ্চলকে বিভক্ত করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও করিমগঞ্জ নামে মহকুমা গঠিত হয়। সিলেট মহকুমা বড় হওয়ার কারণে ১৮৮২ সালে ২৬টি পরগনা নিয়ে সাউথ সিলেট নামে আর একটি মহকুমার সৃষ্টি হয়। ১৯৬০ সালে দক্ষিণ সিলেটের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মৌলভীবাজার। ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার মর্যাদা লাভ করে। এ জেলার নাম মৌলভীবাজার হওয়ার কারণ হলো, মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ ১৭৯৩ সালে তৎকালীন নবীগঞ্জের দেওয়ানী আদালতের প্রথম মুনসেফ নিযুক্ত হন। তিনি মনু নদীর তীরে ১৭৮৬ সালে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন, যা তখন মৌলভীবাজার নামে পরিচিত ছিল।মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-জুড়ী ও বড়লেখায় প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস-তেল ও ইউরেনিয়ামের বিপুল মজুদ রয়েছে। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ইউরেনিয়ামসহ প্রাকৃতিক সম্পদের বিপুল মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় ইউরেনিয়াম, তেল এবং গ্যাসের পর  এবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে পিট কয়লা প্রাপ্তির। জেলার কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হাওর এলাকা নাছনী গ্রামে সম্প্রতি খোঁজ মিলেছে পিট কয়লার।